ডার্ক সার্কলের সমস্যা স্থায়ী সমাধান | Permanent solution of dark circle problem

 1,094 total views,  1 views today

ডার্ক সার্কলের সমস্যা স্থায়ী সমাধান | Permanent solution of dark circle problem
ডার্ক সার্কলের সমস্যা স্থায়ী সমাধান | Permanent solution of dark circle problem

লাইফস্টাইল হোক, বা স্ট্রেস, কিংবা ঘুমের ঘাটতি চোখের চারপাশে যদি কালো বলয় দেখা যায়, তা কিন্তু আপনার ব্যক্তিত্বের ঔজ্জ্বল্যকে ছাপিয়ে প্রকাশ পাবে। না, না! চিন্তা করে এই সমস্যাকে আর বাড়াবেন না। তাই রইল কিছু ঘরোয়া সমাধানের উপায়।

পুজোর ক’টাদিন চুটিয়ে ঘুরেছেন তো? এই চারটে দিন কোনও নিয়মে না থাকাই স্বাভাবিক। রোদ-বৃষ্টিতে ঠাকুর দেখা, ঘুমের ঘাটতি, জাঙ্ক ফুড কোনও কিছুই বাদ থাকে না এই আনন্দোত্‌সবে। কিন্তু ডার্ক সার্কেল? সে কি আর সেকথা শুনবে! চোখই তো মনের জানালা। সেই জানালার চারপাশে যদি কালো গন্ডি থাকে, তাহলে কি আর কেউ সেই জানালায় উঁকি দিতে চাইবেন? তাহলেই বুঝুন! আর শুধু মনের জানালা তো নয়, ডার্ক সার্কেল কিন্তু আপনার শরীর, স্বাস্থ্য, লাইফস্টাইল ইত্যাদির ব্যাপারেও অনেক কিছু বলে দেয়। স্ট্রেস, অপর্যাপ্ত ঘুম, হরমোনাল চেঞ্জ, আনহেলদি লাইফস্টাইল কিংবা বংশগতিহতে পারে ডার্ক সার্কেলের মূল কারণ। পুরো ব্যক্তিত্বই নষ্ট করে দিতে পারে চোখের তলার এই কালি। মেক-আপ করার ক্ষেত্রে স্কিনটোনের সঙ্গে মিলিয়ে কনসিলার ব্যবহার করুন। যদি খুব বেশি সমস্যা থাকে তাহলে প্রথমে অরেঞ্জ শেডের কারেক্টর লাগিয়ে তারপর কনসিলার ব্যবহার করুন। ডার্ক সার্কেল ঢেকে যাবে। অনেকক্ষেত্রে বিভিন্ন কেমিক্যাল ডার্ক সার্কলের সমস্যা দূর করতে পারে। ভিটামিন কে এবং রেটিনল যুক্ত আন্ডার আই ক্রিম ব্যবহার করলে ভাল ফল পাবেন। ডার্ক সার্কেলের কারণ যাই হোক, এই দুই উপাদানযুক্ত ক্রিম চোখের ফোলাভাব এবং কালিভাব কমাতে সাহায্য করবে। তবে ধৈর্য ধরে প্রতিদিন ব্যবহার করতে হবে। নিয়মিত ব্যবহাক করলে এক মাসেই পার্থক্য চোখে পড়বে। তবে যাঁদের সেনসিটিভ স্কিন, তাঁরা অনেকক্ষেত্রেই কেমিক্যালযুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে ভয় পান। অ্যালার্জি, র্যাশ ইত্যাদি বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। সুতরাং তাঁদের ক্ষেত্রে প্রধান এবং সহজ উপায় ঘরোয়া টোটকা। তাহলে চটপট জেনে নিই ডার্ক সার্কলের সহজ ঘরোয়া কিছু উপায়।

টোম্যাটো-Tomato:

চোখার তলার কালি, দাগ-ছোপ, ট্যান কমাতে টোম্যাটো খুব উপকারী। ত্বক নরম করে এবং ডার্ক সার্কলও ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়। ১ চামচ টোম্যাটোর রস প্রত্যেকদিন স্নানের আগে চোখের নিচে লাগান। ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। দিনে দু’বার এভাবে টোম্যাটোর রস লাগান। প্রত্যেকদিন লেবুর রস ও পুদিনা পাতার রস মিশিয়ে টোম্যাটোর রসও খেতে পারেন। ডার্ক সার্কল তো কমবেই, সঙ্গে ত্বকও ভেতর থেকে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

আলু-Potato:

আলু খুব ভাল প্রাকৃতিক ব্লিচ এবং ডার্ক সার্কল কমাতে অব্যর্থ। ত্বকও ঠান্ডা রাখে। সামান্য আলু থেতো করে রস বের করে নিন। সেই রসে তুলো ভিজিয়ে চোখের নিচে লাগান। কিছুক্ষণ তুলোগুলো চোখের উপরে রেখেও দিতে পারেন। ১০ মিনিট পর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

টি ব্যাগ-Tea bag:

গ্রিন টি অ্যান্টইক্সিডেন্টস-এ পূর্ণ যা চোখের তলার কালিভাব কমাতে ভীষণ ভাল কাজে দেয়। চা বানানো হয়ে গেলে টি ব্যাগ ফেলে দেবেন না। ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে নিন। এবার ওই টি ব্যাগ চোখের ওপর রেখে দিন। প্রত্যেকদিন ব্যবহার করলে তাড়াতাড়িই ফল পাবেন।

দুধ-Milk:

প্রতিদিন ঠান্ডা দুধ লাগালেও হাতে নাতে পার্থক্যটা বুঝতে পারবেন। ত্বককে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি ডার্ক সার্কল বা অন্যান্য দাগ-ছোপ দূর করতে পারে। কাঁচা ঠান্ডা দুধে তুলো ডুবিয়ে চোখের ওপর রাখুন। কিছুক্ষণ রেখে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কমলা লেবুর রস: আর একটা খুবই কার্যকরী ঘরোয়া উপায় হল কমলা লেবুর রস। লেবুতে ব্লিচিং প্রপার্টি থাকায় ডার্ক সার্কলের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। সামান্য কমলালেবুর রসে কয়েক ফোঁটা গ্লিসারিন মিশিয়ে ডার্ক সার্কলের উপর লাগান। এতে ডার্ক সার্কল কমার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের ঔজ্জ্বল্যও বাড়বে।

আমন্ড তেল-Amanda Oil:

আমন্ড তেল একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা চোখের চারপাশের নরম ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এতে থাকে প্রচুর ভিটামিন ই। প্রতিদিন এই তেল ব্যবহার করলে চোখের তলার কালিভাব হাল্কা হয়ে আসবে। আমন্ড তেলের পরিবর্তে সরাসরি ভিটামিন ই-ও লাগাতে পারেন। রাতে শুতে যাবার আগে সামান্য আমন্ড তেল নিয়ে আঙুলের সাহায্যে খুব হাল্কাহাতে ম্যাসাজ করুন। সারারাত ওভাবেই রেখে দিন। সকালে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। যতদিন না ডার্ক সার্কলের সমস্যা কমছে, এভাবে আমন্ড তেল লাগিয়ে যান।

শসা – Cucumber:

টেলিভিশন অ্যাডের কথা মনে করুন– বিউটি প্যাক যাই হোক, দু’চোখের ওপর দু’স্লাইস শসা কিন্তু কমন! এর আসল কারণ হল শসারও স্কিন লাইটেনিং এবং অ্যাস্ট্রিনজেন্ট প্রপার্টি আছে। শসা ডার্ক সার্কল কমানোর পক্ষেও আদর্শ। আর শসা যে কতটা রিফ্রেশিং তা তো সবাই জানেনই। মোটা মোটা করে শসা স্লাইস করে নিন। এবার টুকরোগুলোকে ৩০ মিনিট মতো ফ্রিজে রেখে দিন। এবার ১০ মিনিট মতো টুকরোগুলো চোখের ওপর রেখে জল দিয়ে ধুয়ে নিন। প্রত্যেকদিন দু’বার করে সপ্তাহ খানেক ব্যবহার করুন। অথবা সম পরিমাণ লেবুর রস এবং শসার রস মিশিয়ে তুলোয় করে চোখের চারপাশে লাগান। ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। প্রত্যেকদিন একবার করে এক সপ্তাহ ব্যবহার করে দেখুন, ফল অবধারিত।

গোলাপ জল: ত্বকের যত্ন নিতে গোলাপ জল চমত্‌কার কাজ করে। ত্বকের জেল্লা বাড়ায়, ফ্রেশ রাখে এবং ত্বককে রিল্যাক্সও করে। টোনার হিসাবেও এর জবাব নেই। কয়েক মিনিট কটন প্যাড গোলাপ জলে ভিজিয়ে রেখে তা চোখের উপর কিছুক্ষণ রেখে দিন। কয়েক সপ্তাহ প্রতিদিন দু’বার করে ব্যবহার করুন।

নারকেল তেল – Coconut Oil:

চোখের চারপাশে নারকেল তেল ম্যাসাজ করলেও উপকার পাবেন। নারকেল তেলের ময়েশ্চারাইজ়িং ক্ষমতা ত্বক মসৃণ করতে সাহায্য করবে। সঙ্গে সঙ্গে বলিরেখাও দেখা দেবে না। সামান্য একস্ট্রা-ভার্জিন কোকোনাট অয়েল নিয়ে হাল্কাহাতে ম্যাসাজ করে কয়েক ঘন্টা রেখে দিন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। কয়েক মাস ব্যবহার করে দেখুন। ফল পাবেন।

হলুদ: হলুদের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটারি প্রপার্টি চোখের কোণের কালিভাব কমাতে উপকারী। এতে ত্বক কোমল ও মসৃণও হয়। ২ চা-চামচ হলুদগুঁড়ো এবং এক চামচ আনারসের রস একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। চোখের নিচে লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে ভিজে কাপড় দিয়ে হাল্কা হাতে মুছে নিন।

জায়ফল-Nutmeg:

স্কিনের বিভিন্ন দাগ-ছোপ কমাতে জায়ফল কার্যকরী। এতে থাকা ভিটামিন ই এবং সি ত্বকের কালচেভাব কমাতেও সাহায্য করে। ডার্ক সার্কল থেকে বাঁচতে ২ চা-চামচ জায়ফলগুঁড়ো এবং দুধ মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। সারারাত রেখে সকালে ধুয়ে নিন। নিয়মিত ব্যবহারে ডার্ক সার্কেল হাল্কা হয়ে আসবে।

পুদিনা-Mint:

পুদিনাতেও ভরপুর মাত্রায় ভিটামিন সি থাকে যা ডার্ক সার্কেল কমাতে উপকারী। তবে মুখে বা চোখে ব্যবহারের আগে একবার প্যাচ টেস্ট করে নেবেন কারণ অনেকেরই পুদিনায় অ্যালার্জি থাকে। পুদিনা পাতা থেতো করে এতে কয়েক ফোঁটা জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। চোখের চারপাশে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর ধুয়ে নিন। প্রতিদিন রাতে শুতে যাবার আগে এটি ব্যবহার করতে পারেন।

কোল্ড কম্প্রেস-Cold compress:

কোল্ড কম্প্রেস চোখের চারদিকের ব্লাড ভেসেলের ফোলাভাব কমিয়ে চোখেরও ফোলাভাব কমায়। বরফ ঠান্ডা জল বা দুধে তুলো ডুবিয়ে চোখের উপর দিয়ে রাখতে পারেন। অথবা বরফ কাপড়ে মুড়েও ব্যবহার করতে পারেন। না হলে সারারাত একটা চামচ ফ্রিজে রেখে দিন। সকালে চামচের চওড়া অংশ চেপে চেপে চোখের নিচের অংশ ম্যাসাজ করুন। চটজলদি চোখের ফোলাভাব বা কালিভাব কমানোর ভাল অপশন।

ডার্ক সার্কেলের সমস্যা এড়াতে কী কী করবেন, তা তো জানা হল। এবার জেনে নিন কী কী করবেন না।

  • অপর্যাপ্ত ঘুমোবেন না। শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম না পেলে চোখের মাধ্যমেই সবার আগে তার ঘাটতি প্রকাশ করবে।
  • জোরে জোরে চোখ কচলাবেন না। এতে চোখের চারপাশের ত্বকে চাপ পড়ে। ফলে ব্লাড ভেসেলেও চাপ পড়ে এবং ডার্ক সার্কেল বা পাফি আইজ়ের সমস্যা দেখা দেয়।
  • মেক-আপ না তুলে ঘুমাতে যাবেন না। এতে ডার্ক সার্কেলের পাশাপাশি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যাও দেখা দেয়।
  • অতিরিক্ত রোদে ঘুরবেন না। রোদে বেরোলে অবশ্যই সানস্ক্রিন এবং ছাতা ব্যবহার করবেন।
  • শরীরে জলের ঘাটতি হতে দেবেন না। পরিমিত জল খান।
  • ধুমপান এবং অ্যালকোহল বেশি খাবেন না। এতে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকেরও প্রবল ক্ষতি হয়। শরীর ডিহাইড্রেডেট হয়ে পড়ে। তাই এই ধরণের দ্রব্য যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

%d bloggers like this: